প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

পরিচিতি

বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব ক্যাপ্টেন (অবঃ) আবদুস সোবহান কক্সবাজার জেলার অনন্য সুন্দর উপজেলা উখিয়া থানাধীন হলদিয়া পালং ইউনিয়নস্থ মরিচ্যা পালং গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৪০ সালের ২৭ আগষ্ট রোজ বুধবার শুভলগ্নে জন্য গ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম- মরহুম মকতুল হোসেন এবং মাতার নাম মরহুমা ফাতেমা খাতুন। তিনি পিতা-মাতার চার কন্যা ও তিন পুত্রের মধ্যে ২য়। তিনি ছেলেবেলা থেকে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে দেশের সেবা করার আশা পোষণ করতেন। আকাংখা এবং সুযোগ দু’টির সুবাদে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ১৯৬১ সালের ২৮ আগষ্ট তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। সেখানে ৬ মাস ট্রেনিং দেওয়ার পর তাঁহাকে থার্ড ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলী করা হয়। ১৯৬৯ সালের নভেম্বর মাসে তাহাকে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কক্সবাজার অঞ্চলের মুক্তিকামী অকুতোভয় ছাত্র-জনতা-কৃষক-শ্রমিক-সৈনিকদের নিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরুর উদ্দেশ্যে মুক্তিবাহিনী গঠন পূর্বক মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি উল্ল্যেখযোগ্য অনেক গুলো অভিযানে সফলতা অর্জন করেন। ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পুনরায় তিনি রিওয়ার্ক ব্যাটালিয়ানে যোগ দান করেন। বেশ কিছু দিন পর এই ব্যাটালিয়ানের নাম করণ করা হয় ১৯ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

তিনি প্রথমে এই ১৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে হাবিলদার মেজর পদ লাভ করেন। পরবর্তীতে নায়েক সুবেদার, সুবেদার, সুবেদার মেজর ইত্যাদি পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

এরপর তাঁহাকে আলাদা সম্মানে চট্টগ্রামে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টার এ সুবেদার মেজরের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানে অনারারী লেফটেন্যান্ট হন এবং চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অনারারী লেফটেন্যান্ট থাকাকালীন সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সেনা দপ্তর হতে ১৯৮৮ইং সনে সরকারি ব্যয়ে পবিত্র মক্কা শরীফে হজ্ব পালন করার জন্য তাহাকে প্রেরণ করেন এবং আল্লাহ তালার পরম করুনায় ঐ বৎসরই পবিত্র হজ্ব পালন শেষে কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তন করার পর অনারারী ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৯১ ইং সনে অবসর গ্রহণ করেন।

তাঁহার অবসর জনিত জীবনের সময়গুলো যাতে দেশের মানুষের কল্যাণে কাটিয়ে দিতে পারেন, তজ্জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি ১৯৯৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যে বিদ্যালয় সৃষ্টিলগ্ন থেকে অত্র এলাকায় নারী শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছে। বর্তমানে এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ছে। ফলশ্রুতিতে দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর সমূহে অত্র বিদ্যালয় থেকে অধ্যায়ন শেষ করে অনেক নারী কর্মজীবনে পদার্পণ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে। জনগণের মধ্যেও আসছে শিক্ষামুখি সচেতনতা। এ ছাড়া কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার দিকে মনোনিবেশ করতে ২০০৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অবঃ) আবদুস সোবহান কেজি এন্ড প্রি ক্যাডেট স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিশু শিক্ষার পথ সুগম করছেন। বলা অত্যুক্তি নয় যে, এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়নে পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার জনগণের জন্য মসজিদ নির্মাণার্থে প্রয়োজনীয় জমি দান করে জনসেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। তিনি ১২ই জানুয়ারি ২০২৪ খ্রিঃ ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও চার কন্যা রেখে যান। পরম করুনাময় আল্লাহর দরবারে কায়মনোচিত্তে প্রার্থনা আল্লাহ যেন তাহাকে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ায় বেহেস্ত দান করেন, আমিন।

বিশেষ দ্রা-। উল্লেখিত তথ্য নিজের লেখা “মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস বই থেকে সংগৃহিত)

সৌজন্যে: মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল হাকিম, প্রধান শিক্ষক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

© All rights reserved © 2025 MJSGHS
Design & Developed BY ShabbirDigital.com